ডাটা এন্টি কী
data entry হলো এমন একটি কাজ যেখানে সাধারণত ইলেকট্রনিক ডেটা যোগ, যাচাই ও সম্পাদনা করতে হয়। ডাটাবেজের ডাটা যোগ করা, বিভিন্ন পরিসংখ্যান যোগ করা থেকে শুরু করে নোট বা রেকর্ডিং থেকে ডাটা প্রতিলিপি (Transcribe) করাও ডাটা এন্ট্রির মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ এর পরিসরটা আসলে অনেক বড়।
যারা ডাটা এন্ট্রি করেন তাদের মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক ডাটা প্রসেসর, টাইপিস্ট, ওয়ার্ড প্রসেসর, ট্রান্সক্রাইবার, কোডার ইত্যাদি। সাধারণত কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক ডাটা প্রসেসর ব্যবহার করে ডাটাবেজ বা ডকুমেন্টেশেন প্ল্যাটফর্মে ডাটা বা ইনফরমেশন দেয়া হয়। তবে নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুসারে কিছুক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াম বাদে কাগজের ডকুমেন্টও ব্যবহার করতে হতে পারে।
ডাটা এন্ট্রি কি তা নিয়ে একটা বেসিক ধারণা হয়তো আপনি পেয়ে গিয়েছেন।
ডাটা এন্ট্রি কত প্রকার? (Types Of Data Entry)
বর্তমান এই অধুনিক যুগে যেকোনা কাজ কম্পিউটারের দ্বারা করা হয়। এজন্য বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট গুলোকে কম্পিউটারে ডিজিটালি স্টোর করে ডাটাবেজ তৈরি করা সাধারণ একটি ব্যাপার।
তাই বর্তমান সময়ে আলদা আলদা কাজের জন্য আলদা আলদা ধরনের ডাটা কম্পিউটারে এন্ট্রি হচ্ছে। যার ফলে ডাটা এন্ট্রি কাজের বিভিন্ন প্রকার তৈরি হয়েছে। যেমন :
MS-excel এর মধ্যে প্রতিটি সুবিধা রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে data entry র কাজ গুলো অনেক সহজে করা যেতে পারে। তাছাড়া এক্সেল এর মাধ্যমে আপনি আপনার হিসাবে entry ও record গুলোকে edit বা add করতে পারবেন।
ডাটা এন্ট্রি শিখতে কত দিন লাগে?
ডাটা এন্ট্রি শিখতে কত দিন সময় লাগবে সেটা নির্ভর করবে আপনার নিজের শেখার উপর এবং কোন ধরনের কাজ শিখবেন সেটার উপর।
কারণ, ডাটা এন্ট্রি অনেক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন – এমএস ওয়ার্ড ডাটা এন্ট্রি, এক্সেল সিট এন্ট্রি এমন অনেক ধরনের কাজ রয়েছে।
যারা এমএস ওয়ার্ড ডাটা এন্ট্রি শিখবেন তাদের একটু বেশি সময় প্রয়োজন হবে। আর যারা এক্সেল সিট ডাটা এন্ট্রি শিখবেন তারা দ্রুত সময়ে শিখতে পারবেন।
তবে, আমার পরামর্শ থাকবে আপনারা এমএস ওয়ার্ড ডাটা এন্ট্রি কাজটি শিখবেন। তাহলে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে টাইটিং করার কাজ পেয়ে যাবেন।
আপনারা যদি ভালো ভাবে এমএস ওয়ার্ড ডাটা এন্ট্রি শিখতে চান তাহলে ৬-৭ মাস সময় দিলে সহজে শিখতে পারবেন।
ডাটা এন্ট্রি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সবচেয়ে অধিক প্রচলিত ডাটা এন্ট্রির কাজ হলো মাইক্রোসফট এক্সেল সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এছাড়া স্পেল চেকিং, জব পোস্টিং, পেপার ডকুমেন্টেশন, ইত্যাদিও বেশ জনপ্রিয় ডাটা এন্ট্রির কাজ।
চলুন একনজরে জেনে নেওয়া যাক কিছু জনপ্রিয় ডাটা এন্ট্রি জব সম্পর্কে।
সাধারণ ডাটা এন্ট্রি
এই ধরনের ডাটা এন্ট্রি মূলত বিভিন্ন ধরনের ডাটা সোর্স ফাইল যেমনঃ কাগজ বা অন্য কোনো কিছু থেকে ডিজিটাল ফরম্যাটে লিপিবদ্ধ করার কাজ হয়ে থাকে।
প্রোডাক্ট ডাটা এন্ট্রি
কিছু কোম্পানির তাদের প্রোডাক্টের তথ্যের রেকর্ড রাখার প্রয়োজন পড়ে। এসব কোম্পানি এই কাজের জন্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আউটসোর্স করে থাকে। এই কাজের ক্ষেত্রে মূলত প্রোডাক্ট ও এর তথ্যকে সঠিক ফরম্যাটে সাজাতে হয়।
একাউন্টিং ডাটা এন্ট্রি
অনেক সময় অফিসের বিভিন্ন একাউন্টিং সম্পর্কিত তথ্য পুনরায় চেক করার প্রয়োজন হয়, যা করতে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকে কোম্পানিগুলো। এই কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত অফিসের বিভিন্ন তথ্য স্প্রেডশিট বা যেকোনো সুবিধাজনক ফরম্যাটে আনার কাজ করতে হয়।
ডাটা ক্যাপচারিং এন্ড রেন্ডারিং
হার্ড কপি থেকে সফট কপি হিসেবে কোনো ডাটাকে একত্র করে বিশাল ডাটাবেস তৈরি করতে এই ধরনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর প্রয়োজন হয়।
অনলাইন ডাটা এন্ট্রি
যেসব ডাটা এন্ট্রির কাজ বিভিন্ন পোর্টাল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হয় সেগুলোকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। এখানে মূলত রিসোর্স ফাইল থেকে কোনো ওয়েবসাইটে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
অফলাইন ডাটা এন্ট্রি
হার্ড কপি ডাটাকে ডিজিটাল ফরম্যাটে করার কাজ অফলাইনেও করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো ডাটাকে কম্পিউটারের কোনো সফটওয়্যারে লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে।
ডাটা মাইনিং
বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে এনালাইজ করাকে ডাটা মাইনিং বলা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক ডিসিশন সহজে নেওয়া যায়।
ডাটা এন্ট্রি কি এবং এই কাজের ভবিষ্যত
আপনারা যারা ডাটা এন্ট্রি করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যাচ্ছেন বা নতুন ফ্রিল্যান্সার হয়েছেন তারা আসলেই কি সঠিক পথে আছেন..??? আপনি যে কাজ শিখে অনলাইনে আয়ের নতুন দুনিয়ায় আসছেন তাদের ভবিষ্যত কতটুকু নিরাপদ..?? আজ আমরা ডাটা এন্ট্রি কি এবং এই কাজের ভবিষ্যত তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

No comments:
Post a Comment