smart phone এর সুফর ও কুফল প্রভাব ?

 smart phone এর  সুফর ও কুফল প্রভাব ?

আধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যার নবতম আবিষ্কার হল ইন্টারনেট, ই-মেল ও মোবাইল ফোন । যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হল মোবাইল ফোন । আজকের দিনে কোনো আত্মীয় পরিজন, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কাউকে চিঠি লিখে তার উত্তরের প্রতীক্ষায় ডাক-পিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় না । তার বিহীন এই ক্ষুদ্র মোবাইল যন্ত্রটির মাধ্যমে আমরা মুহূর্তে দেশে বা বিদেশে থাকা মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারি, সমস্ত প্রকার খবরাখবরের আদান প্রদান করতে পারি । গত কয়েক বছরের মধ্যে এই ছোট যন্ত্রটি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দেখা দিয়েছে । মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না ।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রসার : মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন সর্বস্তরেই । সমাজের উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত সব পরিবারেই  মোবাইল ফোনের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে । এই যন্ত্রটি স্বল্প মূল্যেও পাওয়া যায় আবার বেশি দামের স্মার্টফোনও আছে । সুবিধাজনক মূল্যে ও আকর্ষণীয় শর্তে পাওয়া যায় বলে এটা সর্বস্তরের মানুষ ব্যবহার করছে । বিশেষত বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে এর আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে । ভবিষ্যতেও এর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সকলের ধারণা ।

মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তার কারণ : মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে বিশেষ বিশেষ কারণ হল প্রথমত - দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মোবাইল ফোন এত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে । স্বল্পমূল্যে ফোনটি কেনা যায় বলে সব ধরনের মানুষ এটি ব্যবহার করতে পারে । দ্বিতীয়ত - মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে সর্বত্র যাওয়া যায় এবং সব জায়গায় এটা ব্যবহার করা যায় অতি সহজে । তৃতীয়তঃ কম খরচে এস.এম.এস -এর মাধ্যমে গ্রাহক যে কোন সংবাদ আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কোনো জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে । চতুর্থত ল্যান্ডলাইন ফোনে মাঝে মাঝে প্রচুর টাকার বিল আসে । মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটে না । পুলিশের যে কোনো তদন্তের কাজে মোবাইল ফোন একটা বড় হাতিয়ার রূপে কাজ করে । অপরাধীদের ব্যবহার করা মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক করে অন্যান্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া যায় । যে কোনো অপরাধ মূলক তদন্তের কাজে মোবাইল ফোন এখন একটি অপরিহার্য বস্তু ।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব

 মোবাইল ফোনের ব্যবহার সভ্য জীবনের একটা অপরিহার্য ব্যবস্থা হয়ে উঠলেও এর ক্ষতির দিকও রয়েছে । মোবাইল ফোনে বেশি কথা বলা বা ব্যবহার করা ঠিক নয় । বর্তমানে আট থেকে আশি বছরের সবাই মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে যে এটা ঠিক নয় । এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে । মোবাইল ফোনে অনর্থক কথা বলা, এস.এম.এস করা, গেম খেলা, বা নানা ধরনের পর্নো ছবি দেখায় লিপ্ত থাকে যুবক-যুবতীরা । এটি একটি নেশার মত যুব সমাজকে গ্রাস করেছে । কানে মোবাইল ফোনের কর্ড লাগিয়ে রাখায় কারোর কথা শুনতে পায় না বা শুনতে চায় না । একটা বেপরোয়া ভাব দেখা যায় এদের মধ্যে । আবার ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়ার সময় কোনো দিকে খেয়াল থাকে না, এতে অকালে অনেক প্রাণ চলে যায় । অনেকে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনেকের বিপদ ডেকে আনে । অত্যধিক মোবাইল ফোনের ব্যবহারে মস্তিষ্কে ক্যানসারও হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সমীক্ষা করে জানিয়েছেন ।






মোবাইল ফোন আমাদের জীবন যাত্রায় অনেক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে । কিন্তু ক্ষতিও হচ্ছে প্রচুর । মোবাইল ফোনের ব্যবহারে কিশোর-কিশোরীরা এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছে, যে তারা পারিপার্শ্বিকের দিকে তাকাচ্ছে না । এমনকি পরিবারে বাবার আর্থিক অবস্থার কথাও ভাবছে না । তাদের চাহিদা পূরণের জন্য বাবা-মার উপর চাপ সৃষ্টি করে পরিবারে অশান্তি বাড়াচ্ছে । নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা হবে ভবিষ্যতে দেশের কর্ণধার । তারা যদি এইভাবে গা বাঁচিয়ে চলে, তাহলে দেশটা গড়বে কারা ? আমাদের মনে রাখতে হবে ভারতের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র, অশিক্ষিত । সর্বাগ্রে এদের উন্নতির কথা চিন্তা করতে হবে । বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের জনসাধারণের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত অন্ধভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে থাকা নয় ।


মোবাইল ফোন ও ট্যাবের মতো আধুনিক প্রযুক্তি-সুবিধার ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে মানুষ এখন কম বয়সেই বুড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার চাপ তৈরি করছে।
কুঁজো হয়ে বা নত হয়ে ইলেকট্রনিক পণ্য অধিক সময় ধরে ব্যবহারের কারণে মানুষের ‘টেক নেক’ জাতীয় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে মানুষের মুখের ও চোয়ালের চামড়া কুঁচকে ও ঝুলে যাচ্ছে। এ কারণে অল্প বয়সেই মানুষকে বয়স্ক দেখাচ্ছে।
মুম্বাইভিত্তিক ফর্টিস হাসপাতালের কসমেটিক সার্জন বিনোদ ভিজ বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা ঝুঁকে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করেন, তাঁদের মুখে বলিরেখা দেখা দেয়। এ ছাড়া ঝুঁকে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হয়। মাথাব্যথা, ঝিমুনি, হাত-কবজি, কনুইয়ে ব্যথা বা খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতের কসমেটিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কসমেটিক সার্জন মোহন থমাস বলেন, ঘাড়, হাড় ও ত্বকের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, মানুষ তা বুঝতে পারছে না। প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট মানুষগুলোর এ ধরনের সমস্যা ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের অতিব্যবহার কমাতে হবে।
মোহন থমাস আরও বলেন, স্মার্টফোনের অতিব্যবহারে ঘাড়ের পেশিতে টান পড়ে। এ ছাড়া চামড়ার ওপর মাধ্যাকর্ষণ চাপ বাড়ে। এ কারণে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, দুই চিবুক, চিবুক ও ঠোঁট বরাবর খাড়া লাইন ও চোয়াল আলগা হয়ে পড়ে। মুখের ওপর এই চিহ্নগুলো দেখা দেওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হচ্ছে স্মার্টফোন ফেস।








No comments:

Post a Comment