hacking কী ?
আধুনিক যুগে কম্পিউটার ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে যার ফলে গোটা বিশ্ব আস্তে আস্তে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা যত বেশি অনলাইন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছি ততবেশি কিন্তু সাইবার ক্রাইম (cyber crime) ও বেড়ে চলছে। সাইবারক্রাইম হচ্ছে অনলাইনে সংগঠিত অপরাধ। তো এই সাইবার অপরাধমূলক কাজ গুলো পরিচালিত হয় কিন্তু হ্যাকিংয়ের (hacking) মাধ্যমে ।
হ্যাকিং কত প্রকার ও কি কি ?
হ্যাকিং প্রধানত 7 প্রকার । নিচে বিস্তারিত হ্যাকিং এর প্রকারভেদ গুলো আলোচনা করা হবে।
1. ওয়েবসাইট হ্যাকিং (website hacking)
নাম শুনে হয়ত বুঝতে পারছেন ওয়েবসাইট হ্যাকিং মানে ওয়েবসাইট হ্যাক করা । হ্যাকাররা ওয়েবসাইট টি হ্যাক করে ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে নেয় এবং যা খুশি তাই পোস্ট করতে পারে এবং আপনার মালিকানা পরিবর্তন করতে পারে।
2. নেটওয়ার্ক হ্যাকিং (network hacking)
নেটওয়ার্ক হ্যাকিং মানে হচ্ছে নেটওয়ার্ক হ্যাক করা। উদাহরণস্বরূপ কোন কোম্পানি বা সরকারি অফিসের অনেকগুলো কম্পিউটার থাকে প্রত্যেকটি কম্পিউটার একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে ওই local area network কে হ্যাক করা হচ্ছে নেটওয়ার্কিং হ্যাকিং এর ফলে নেটওয়ার্ক এর উপরে হ্যাকাররা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করে। Network হ্যাক করার জন্য মূলত অনেক ধরনের টুল ব্যবহার করা হয়।
3. এথিক্যাল হ্যাকিং (ethical hacking)
কোন কোম্পানির সিস্টেম সিকিউরিটি গুলোকে আরো secure করার জন্য মূলত হ্যাকাররা hack করে থাকে আর এটি পুরোপুরি legal । কম্পিউটার সিস্টেমের কোন জায়গায় গন্ডগোল আছে কিনা না বা কোন সমস্যা আছে কিনা এটি দেখাশোনার কাজ হল ethical হ্যাকারদের কারণ কোন Black Hat Hackers যেনো কম্পিউটার সিস্টেমকে hack না করতে পারে।
4. পাসওয়ার্ড হ্যাকিং (password hacking)
অনেক ধরনের টুলস এর সাহায্যে সিস্টেম এর পাসওয়ার্ড খুঁজে বের করা হলো পাসওয়ার্ড হ্যাকিং। তারা চাইলে সেই পাসওয়ার্ডটি চেঞ্জ করে নিজের ইচ্ছামত পাসওয়ার্ড দিয়ে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
5. ই-মেইল হ্যাকিং (email hacking)
আপনারা অনেকেই শুনে থাকেন যে ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক তো এই কাজটি মূলত ই-মেইল হ্যাকিং এর মাধ্যমে করে থাকে। কারোর ইমেইল হ্যাক করে মেইল চুরি করা বা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে ই-মেইল হ্যাকিং। হ্যাকাররা ইমেইল হ্যাক করে ওই ইমেইল পুরোপুরি নিজের কন্ট্রোলে করে নেয় ইমেইলের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দেন যাতে কেউ access করতে না পারে।
6. মোবাইল হ্যাকিং (mobile hacking)
কারোর মোবাইল হ্যাক করা হচ্ছে মোবাইল হ্যাকিং। হ্যাকাররা মোবাইল হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা হাতিয়ে নিয়ে । অনেক সময় হ্যাকাররা ইমেইল বা মেসেজে লিংক পাঠায় সেই লিংকে ক্লিক করলে কিন্তু আপনার মোবাইলের হ্যাকাররা নিয়ে নেবে।
7. কম্পিউটার হ্যাকিং (computer hacking)
এই ধরনের হ্যাকিং এর অর্থ হল হ্যাকাররা কম্পিউটার সিস্টেমকে hack করে কম্পিউটারের সমস্ত ডেটা চুরি করে নেয় বা নষ্ট করে দেয়। হ্যাকাররা বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার , ভাইরাসের মাধ্যমে কম্পিউটার সিস্টেমকে করে।
হ্যাকার কাকে বলে ? (What is hacker)
হ্যাকার হলো যে ব্যক্তি যিনি কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, নেটওয়ার্কিং স্কিল ইত্যাদি বিষয়ে গভীর পারদর্শী এবং যিনি কম্পিউটার সিস্টেমকে পুরোপুরি হ্যাক করে সমস্ত ডেটা হাতিয়ে নেয়। এবং হ্যাকাররা পরবর্তীকালে কম্পিউটার এর মালিক কে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা নেই। তারা বলে টাকা দিলে আমি ডেটা গুলো ফেরত দিবো এইভাবে মূলত ব্ল্যাকমেল করে। অর্থাৎ হ্যাকার বলতে এককথায় বোঝায় যে কম্পিউটার হ্যাক করে তাকে হ্যাকার বলে।
তবে সব হ্যাকারই খারাপ নয় ভালো হ্যাকার ও আছে ও খারাপ থাকার ও আছে। যেসব হ্যাকার মূলত মানুষদেরকে ক্ষতি করার চেষ্টা করে টাকা পয়সা বিভিন্ন ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেয় তারা হচ্ছে খারাপ hacker। এছাড়া অনেক ভালো হ্যাকার নিরাপত্তার স্বার্থে, ভালো কাজের জন্য হ্যাক করে থাকে।
সাধারণত হ্যাকার তিন প্রকারের হয়।
1. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার (Black hat hacker)
ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা আপনার পারমিশন ছাড়া নিজের স্বার্থ লাভের জন্য বিভিন্ন রকমের অবৈধ (illegal activities) কাজ করে থাকে যেমন কম্পিউটার সিস্টেম হাক করা, পাসওয়ার্ড হ্যাক করা, ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করা, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করা, ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এই হ্যাকাররা আপনার সিস্টেম হ্যাক করে আপনার ডেটা নষ্ট বা ধ্বংস করে দিতে পারে। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার কি আশা করি এই বিষয়টি বুঝতে পারলেন।
2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (white hat hacker)
এই ধরনের হ্যাকাররা কোন অবৈধ (illegal) কাজ করে না। আপনার পারমিশন নিয়ে বৈধভাবে হক করে থাকে আপনার সিকিউরিটি কে আরো মজবুত করার জন্য। বড় বড় IIT কোম্পানিতে high security প্রদান করে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা। আশাকরি হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার কি বিষয়টি বুঝতে পারলেন।
3. গ্রে হ্যাট হ্যাকার (grey hat hacker)
এধরনের হ্যাকাররা বৈধ (legal) ও অবৈধ (illegal) দুই ধরনের কাজ করতে পারে। আপনার সিস্টেমকে হাক করে ডাটা চুরি বা ধ্বংস করতে পারে , চাইলে এই ধরনের হ্যাকাররা হাই সিকিউরিটি provide করতে পারে ।
এরা মূলত অনুমতি না নিয়ে সিস্টেমের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হ্যাক করে থাকে কিন্তু এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনরকম ক্ষতি করে না বা ডেটা চুরি করে না । এরা অবৈধ কারণ পারমিশন না নিয়েই গুলো করে । আশা করি করি গ্রে হ্যাট হ্যাকার কি বিষয়টা বুঝতে পারলেন।



No comments:
Post a Comment